রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০২:২৭ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
*নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন *নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন *নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন *নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন
সংবাদ শিরোনাম :
পটুয়াখালীর গলা‌চিপায় রূপান্তর আস্থা প্রকল্পের হুইসেল ব্লোযার সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করেছে তা ইতিহাসে বিরল: সারমিন সালাম নারী-পুরুষ উভয়কে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হতে হবে-খুলনায় কৃষি সচিব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের জন্য আশির্বাদ-দিঘলিয়ায় এমপি সালাম মূর্শেদী পটুয়াখালীর ‌দুম‌কিতে আস্থা প্রকল্পের আয়োজনে হুইসেল ব্লোযার সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খুবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রূপসায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পটুয়াখালী সদর উপ‌জেলায় আস্থা প্রকল্পের নাগরিক‌দের হুইসেল ব্লোযার সভা অনুষ্ঠিত খুলনায় আবার খুন

খুলনায় যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় ১৯ জনের নামে মামলা : আটক ৩

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪, ১১.১৭ পিএম
খুলনায় যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় ১৯ জনের নামে মামলা : আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে খুলনা নগরীর ২৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন (৪৫) কে হত্যার ঘটনায় খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়।

এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে মামলার এজাহারনামীয় ৩ আসামি গ্যারেজ মালিক মামুন, ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

মামলায় এজাহারনামীয় আসামী করা হয়েছে, খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার সন্ত্রাসী মিজান শেখ (৪৫), মিস্ত্রিপাড়া টাওয়ার গলি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রিয়াজুল ইসলাম (৩৫), মো. মিরাজ শেখ (৩৮), বাগমারা এলাকার নাঈম (২৫), শাওন (২৬), মনি (২৩), বাগমারা এলাকার চান্দু (৪৫), পূর্ব বানিয়া খামার এলাকার অপু (৩২), মো. হেলাল (২৭), সোহাগ পাটোয়ারী (৪০), তরিক (৪৫), ইব্রাহিম শিকদার (৩০), ইসমাইল শিকদার (২৫), আতা (২৬), আবু সাঈদ (২৫), হৃদয় গাজী (২৫), মো. মামুন (৪৫), শাহ আলম (৪৫), মো. মোস্ত (২৪), সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।

অনুসন্ধানী সুত্র অনুযায়ী জানা গেছে, স্থানীয় মাদক বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে একজন প্রভাবশালীর হাত রয়েছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেন।

এছাড়াও বানিয়াখামার এলাকায় ২টি সন্ত্রাসী গ্রুপ। তার মধ্যে একটি দাদো মিজান গ্রুপ, অন্যটি আলামিন গ্রুপ।

২ মাস পূর্বে আলামিন গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে ওই গ্রুপের প্রধানের সাথে আলামিনের মনোমালিন্য হয়।

এ ঘটনায় আলামিন দাদো মিজানকে হত্যা করার জন্য গুলি করে। কিন্তু সে গুলি বিস্ফোরিত না হওয়ায় ওই যাত্রায় দাদো মিজান প্রাণে বেঁচে যায়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন (৪৫) এর সাথে উল্লেখিত আসামীদের গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়ে আসছিলো।

ইতিপূর্বে ১নং আসামী আলামিনকে হত্যার করার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি প্রদান করে।

তারই ধারাবাহিকতায় ৮ জুলাই রাত্র অনুমান ৮ টা ৪৫ মিনিটের দিকে ১০ ও ১১নং আসামীর সাথে খুলনা সদর থানাধীন পূর্ব বানিয়াখামার বড় মসজিদের সন্নিকটে দেখা হলে তারা আলামিনকে লোহার গেট সংলগ্ন ১৭নং আসামী মামুনের গ্যারেজের ভিতরে রাত ৮ টা ৫০ মিনিটের দিকে ডেকে নিয়ে যায়। ১৭নং আসামীর গ্যারেজের ভিতর গিয়ে বসা মাত্র বাকী আসামীরা ১নং আসামীর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৭নং আসামীর গ্যারেজের ভিতর প্রবেশ করে আলামিনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ২নং আসামীর হাতে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যপুরি কোপাতে থাকে। ২নং আসামীর আঘাতে উক্ত স্থানে পড়ে গেলে ৩, ৪ ও ৫নং আসামীদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যপুরি কোপানো হয়। উক্ত কোপ সে নিজে তার বাম হাত দিয়ে ঠেকালে তার বাম হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০নং আসামীদের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার দুই পায়ে হাঁটুতে উপুর্যপুরি কোপ দেয়। ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮ ও ১৯ নং আসামী সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা আলামিনকে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য চর্তুরদিকে ঘিরে ধরে পা দিয়ে পাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীরা তাকে উপুর্যপুরি কুপিয়ে গুরুতর মুমুর্ষু অবস্থায় গ্যারেজের ভিতর ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আলামিনকে কোপানোর দৃশ্য দেখতে পেয়ে ২নং সাক্ষী ডাক চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের অন্যান্য লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

সাক্ষী সহ আশপাশের অন্যান্য লোকজন

আলামিনকে চিকিৎসার জন্য ইজিবাইক যোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা

মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আলামিনের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় হত্যা মাদকসহ ১০ টি মামলা চলমান।

এদিকে আসামি রিয়াজুল ও মিজান সহ এ মামলার অধিকাংশ আসামীরা খুলনা মহানগরীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোহান হত্যা মামলার আসামী ছিলো। কিন্তু অদৃশ্য এক অপশক্তির ছত্রছায়ায় মামলা থেকে অপরাধীরা কিভাবে মুক্তি পাই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ?

এমনকি সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রিয়াজুল সে নিজে এবং সরাসরি তার সহযোগীদের মোটরসাইকেল দিয়ে রোহান হত্যাকান্ডে কিলিং মিশনে জড়িত ছিলো বলে ওই সময় অভিযোগ উঠেছিলো।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল খান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আলামিনকে হত্যা করার জন্য দু’টি দলে মোট ২০ জন ছিল। প্রথমটি ব্যর্থ হলে পরের দল তাকে আক্রমণ করে হত্যা করবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ হত্যাকাণ্ড। রাত ৯টার দিকে দু’জন ব্যক্তি তাকে ডেকে ওই মামুনের গ্যারেজের ভেতর নিয়ে আসে। আলামিন কিছু বুঝে ওঠার আগে সন্ত্রাসীরা তার ওপর আক্রমণ করে এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরই ওউ দু’ব্যক্তি আবার আলামিনকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল ক‌লেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্যারেজ মালিক মামুন, ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে খুলনা থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছন। মামলার তদন্ত চলছে, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে : এই রিয়াজুল সহ আরও কয়েকজন আসামী দীর্ঘদিন ধরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছে।

এই বহুরূপী মাদক ব্যবসায়ী রিয়াজুলের প্রকাশ্যে কোন বৈধ ব্যবসা না থাকলেও কখনো বিউটি পার্লার, কখনো কসমেটিকস এর দোকান, কখনো বাগদা-গলদা চিংড়ি মাছের ব্যবসা, আবার কখনো ইটের ব্যবসার নাম ব্যবহার করে অতি গোপনে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে মাদক বিক্রি করে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এই মাদক বিক্রেতা যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ৬ মাস অথবা ১ বছরের মধ্যে বাসা পরিবর্তন করে আবার নতুন ভাড়া বাড়িতেও শুরু করে এ মাদক ব্যবসা।

বর্তমানে এই রিয়াজুলের প্রকাশ্যে কোন চলমান ব্যবসা না থাকলেও মাদকের ব্যবসা রয়েছে বহাল তবিয়তে।

রিয়াজুল সহ আরও কয়েকজন আসামী কার ছত্রছায়ায় মাদক বিকিকিনি করছে এটা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ?

এই ধুরন্ধর টাউট রিয়াজুল প্রতিদিন দুপুর হলেই অর্থাৎ ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে টেপ দিয়ে পেছানো ফেনসিডিল এবং সর্বনাশা ইয়াবা নিয়ে তার মাদক ব্যবসায় নিয়োগ করা লোকদের হাতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

মাদক বিক্রেতা রিয়াজুল কক্সবাজারে ভ্রমণের নাম করে ইয়াবা বহন করে আসছেন বলে এমন অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে এই রিয়াজুল সামান্য রংমিস্ত্রি থেকে আজ মাদক ব্যবসায়ী পরিনত হয়ে রাতারাতি কাচা টাকার মালিক বনে গেছে। মাদক বিক্রেতা রিয়াজুলের বিরুদ্ধে হত্যা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এই টোকায় রিয়াজুল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে একসময় খালি হাতে খুলনায় এসে রংমিস্ত্রির কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতো। আর এখন খুলনার মিস্ত্রি পাড়া এলাকায় প্লাট ভাড়া করে মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

 

খুলনায় ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

https://natunshokal.com/#
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অনুমতি ছাড়া এই পোর্টালের কোন সংবাদ কপি করে অন্য কোথাও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।