বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

রূপসায় টাকা ছাড়া মেলেনা ভাতাভোগীদের সরকারি কার্ড

  • আপডেট : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৬.৪২ পিএম
রূপসায় টাকা ছাড়া মেলেনা ভাতাভোগীদের সরকারি কার্ড

এস এম মাহবুবুর রহমান : গ্রামীন জনপদের নিম্ন আয়ের হত দরিদ্রদের দারিদ্রতা দূরিকরণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে ভিজিডি কার্ড, রেশন কার্ড, বিধবা কার্ড, প্রতিবন্ধী কার্ড ও বয়স্ক কার্ডের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে টাকা ও চাল। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভাতাভোগীর সংখ্যা রয়েছে ১০ হাজার ৩০১ জন।

সরকারি এসব খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা অনেকেরই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। অথচ খুলনার রূপসা উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে টাকা ছাড়া মিলছেনা ভাতার কার্ড।

সমাজ সেবা অফিসের দোহায় দিয়ে কার্ড প্রতি নেয়া হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। টাকা দেওয়ার পরও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি এসব কার্ড। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এসব অর্থ বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

সমাজ সেবা অফিসের দোহায় দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করলেও কিছুই জানেন না তারা। বরং সুনিদৃষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান ।

পাথরঘাটা গ্রামের ভুক্তভোগী শুসেন সরকার বলেন-বয়স্ক ভাতা’র আবেদন করার আহ্বান জানিয়ে গত ৬/৭ মাস আগে এলাকায় মাইকিং করতে আসে। তখন আমি একটি বয়স্ক ভাতা’র কার্ডের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে আবেদন করি।

এই পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও আজও কার্ড পাইনি। তিনি বলেন ভিটা-বাড়িসহ আমার মাত্র এক বিঘা জমি রয়েছে। কোন আয়-উপার্জন নেই। খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে। ভাতা’র কার্ডটা পেলে দু’টো ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারতাম।

পিঠাভোগ গ্রামের বাসিন্দা অমল মুখার্জী বলেন-বয়স্ক ভাতা’র কার্ডের জন্য মেম্বর চেয়ারম্যানদের কাছে আইডি কার্ড ও ছবি জমা দিয়ে দিনের পর দিন হেঁটেছি। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর শুনীতি রায় কার্ডের জন্য ৪ হাজার টাকা চেয়েছিলো। আমি দিতেও চেয়েছিলাম। পরে উনি অন্য একজনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে তাকে কার্ড করে দিয়েছে।

ঘাটভোগ গ্রামের হাসেম শিকদার বলেন-আমি পঙ্গু মানুষ। একটা কার্ডের জন্য মেম্বর চেয়ারম্যান সবাইকে ধরেছি। তারা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমার আইডি কার্ড, ছবি ও টাকা নিয়েছে। তারপরও আমাকে কার্ড করে দেয়নি।

শেষ বয়সে অনেক কষ্টের মাঝে আমাদের দিন কাটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মত অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নানা ভাবে সহায়তা দিলেও স্থানীয় মেম্বর চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগীরা টাকা ছাড়া কিছুই চেনে না।

হাসেম শিকদারের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন- আমার স্বামী একজন পঙ্গু মানুষ। তার নামে এক কার্ড করার করার জন্য সবাইকে কিছু কিছু টাকা-পয়সা দিয়েছি, আইডি কার্ডের ফটো কপি, ছবি দিয়েছি। তারা দেবো দেবো বলে ঘুরালেও কেউ কার্ড করে দেয়নি।

পাশের একজনকে একশ টাকা নিয়েছে, লিটন আড়াইশ টাকা ও সুজিত চার হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু কেউ একটা কার্ড করে দেয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেয়নি।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য স্বপ্না রানী পাল বলেন- সামনে নির্বাচন করবে এমন দুইজন মহিলা প্রার্থী বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ড করিয়ে দেয়ার কথা টাকা নিচ্ছে। এছাড়া বয়স্ক ভাতা’র জন্য টাকা দিয়ে কার্ড পাইনি এমন অনেক লোক রয়েছে।

তাদের সেই আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি আমার কাছে জমা আছে। তিনি বলেন- জোহরা বেগম ও মুজিবর রহমান নামে দুইজনের কার্ড আমি থেকে বিনা টাকায় করিয়ে দিয়েছি।

এছাড়া আনোয়ারা ও শ্যামলী নামে দুইজনকে প্রতিবন্ধী কার্ড করিয়ে দিয়েছি। অথচ তাদের বাড়ি বার বার লোক গিয়ে বলেছে ৪ হাজার করে টাকা না দিলে কার্ড কাটা যাবে।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য শুনীতি রায় মোবাইলে বলেন- আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক না।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান বলেন-আমি ও আমার অফিস দুর্ণীতিমুক্ত। অভিযোগ পেলে অন্যায় যে করবে তার বিরুদ্ধে নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তা সঠিকভাবে পালন করবো।

আমরা চাই যার হক তার কাছেই যেন যাই। তিনি বলেন ইতোপূর্বে যেভাবে দুর্ণীতি হয়েছে, ভবিষ্যতে সেরকম হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এবার থেকে আমাদের ভাতা’র কার্যক্রম অনলাইনে হচ্ছে। আগে ভোটার আইডি কার্ড টেম্পারিং করে অনেকে ভাতা নিয়েছে। এখন আর সেই সুযোগ নেই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নিচে আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ThemesBazar-Jowfhowo
# নতুন সকাল ডটকম, রূপসা-খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা। # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।