শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা

মৃত্যুর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তেরখাদার নারায়ন চন্দ্র ধর

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১, ৯.৪২ পিএম
মৃত্যুর পরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তেরখাদার নারায়ন চন্দ্র ধর

রাসেল আহমেদ, তেরখাদা : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ১৯৭১ সালে রনাঙ্গণের সৈনিক তেরখাদা উপজেলার ভূজনীয়া গ্রামের মৃত নারায়ন চন্দ্র ধর। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছে তার সন্তানেরা। প্রামান্য কাগজপত্র নিয়ে ছুটছেন সংশি¬ষ্ট দপ্তরে দপ্তরে। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কষ্ট নিয়ে ১৯৮৭ সালে পরলোক গমন করেন নারায়ন চন্দ্র ধর।

বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও গেজেট ভুক্ত করার জন্যে তার সন্তান বিষ্ণুপদ ধর স্বাধীনতার সনদ ও অস্ত্র জমার সার্টিফিকেটসহ জেলা কমান্ডার, থানা কমন্ডার ও সহযোদ্ধাদের প্রত্যায়ন এবং অন্যান্য কাগজ পত্র নিয়ে ঘুরছেন।

৯ নম্বর সেষ্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন নারায়ন চন্দ্র ধর। তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ নং-৯৬৩২৭। তাকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মুহম্মাদ আতাউল গনি ওসমানী এবং ৮ নম্বর সেষ্টরের আঞ্চলিক অধিনায়ক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ প্রদান করেন। নারায়ন চন্দ্র ধর স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০৩ রাইফেল ফুলতলা মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দেন। ১৯৭২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর কমন্ডার ক্যাপ্টেন ফহম উদ্দিন এবং উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর প্রাধন বোরহান উদ্দিনও মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যায়ন প্রদান করেন। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর তেরখাদা খুলনার যুদ্ধাকালীন কমান্ডার মোঃ নুরুল হক মোল্যাও স্বীকৃতি দেন।

তিনি তার লিখিত প্রত্যায়নে বলেন, নারায়ন চন্দ্র ধর পাতলা ক্যাম্পে ২১দিন প্রশিক্ষণ গ্রহন করে তার নেতৃত্বে তেরখাদা, হাড়িখালি এবং বেলফুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেন। তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র ক্রমিক নং-৯৬৩২৭। ২০০৮ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রত্যায়ন প্রদান করেছিলেন।

নারায়ন চন্দ্র ধরের সহযোদ্ধা ছিলেন মোঃ বোরহান উদ্দিন আহমেদ (গেজেট নং-১২৮) লাল মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২০১, শেখ লাহু মিয়া, লাল মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২৩৭, লস্কর শওকত আলী, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২২১, ইসমাইল সরদার, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০২০০৪০, মকিত সরদার, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০১১৮, কেরামত আলী, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০১০৪, সুমঙ্গল, মুক্তিবার্তা নং-০৪০২০২০৩২৮, নারায়ন চন্দ্র ধরের এলাকার তালিকা নং-১০০ এবং জেলার তালিকা নং-২৫৭। নারায়ন চন্দ্র ধরকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোল্যা জালাল উদ্দিন এবং খুলনা সিটি করপরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকও সুপারিশ করেন।

নারায়ন চন্দ্র ধরের একমাত্র পুত্র বিষ্ণু পদ ধর বলেন, তার বাবার কাগজপত্র নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার সকল প্রকার স্বীকৃতি আছে, কাগজপত্রও আছে অথচ রহস্যজনক কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার পিতার নাম অর্ন্তভুক্তি হয়নি। তিনি সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের কাছে তার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভূক্তি করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিচে আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ThemesBazar-Jowfhowo
# নতুন সকাল ডটকম, রূপসা-খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা। # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।