শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
তেরখাদা সদর ইউনিয়নবাসীকে ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সৌদি প্রবাসী আবুল হাসান রূপসা প্রেসক্লাবের সদস্যদের তরুণ সমাজ সেবক জুয়েলের ঈদ উপহার প্রদান তেরখাদা উপজেলাবাসী সহ সদর ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা আ’লীগের সভাপতির ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা তেরখাদা উপজেলাবাসী সহ সদর ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদকের ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা তেরখাদা সদর ইউনিয়নবাসীকে জেলা স্বেচ্চাসেবকলীগ নেতার ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা খুলনা জেলাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান চিলমারীতে অটো রিক্সার চাপায় এক শিশুর মৃত্যু মংলা ও সুন্দরবনের জেলেপাড়ায় নৌবাহিনীর সপ্তাহব্যাপী ত্রাণ তৎপরতা ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি’র ঈদ উপহার বিতরণ রামপালে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে উপ‌জেলা ছাত্রদলের ইফতার বিতরণ

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এক অনন্য মাধ্যম ডুমুরিয়ার ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজার 

  • আপডেট : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ১০.২৮ পিএম
প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এক অনন্য মাধ্যম ডুমুরিয়ার ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজার 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সময়ে এক ভয়াবহ সংকট হচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। করোনা মহামারির এ কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় বেশ বিড়ম্বনা তৈরী করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রাণিজ প্রোটিন তথা পুষ্টি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এমনি অবস্থায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ এর আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য প্রোডিউসার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি মাছ বিক্রির এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাণিজ পুষ্টির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়াস চালান যা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে পিও এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রির কার্যক্রমে শামিল হয় এবং নিজ নিজ এলাকায় পুষ্টির যোগান দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজারের মাধ্যমে মাছ বিক্রি স্থানীয় পর্যায়ে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। ডুমুরিয়ায় প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২.৫ থেকে ৩.০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় গত বছর ১৮ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। এতে করে সিআইজি ও নন-সিআইজি মৎস্যচাষীরা যেমন লাভবান হয়েছেন তেমনি সাধারণ মানুষও ঘরে বসে মাছের সরবরাহ পেয়ে বেশ উপকৃত হচ্ছেন। তবে এ কার্যক্রমের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না, অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে।
এ উদ্যোগের অগ্রসৈনিক সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, যেহেতু ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজার একটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের আইডিয়া তাই প্রথমে মানুষের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে পরবর্তীতে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজার উপজেলাব্যাপী ব্যাপক সাড়া পায়।

এক্ষেত্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ২৫৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা (৫০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার) আয় করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ চিংড়িসহ মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানি হয়। রপ্তানিতে তৈরী পোশাকের পরপরই চিংড়ির অবস্থান। কিন্তু বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির যে প্রভাব তার আঁচ বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানিতেও লাগে। চিংড়িসহ মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দামও কমে যায়।

একদিকে করোনার কারণে রপ্তানি বন্ধ অন্যদিকে লকডাউনে দেশব্যাপী মাছ পরিবহনে নানাবিধ সমস্যা তৈরী হয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে প্রান্তিক মাছ চাষীরা তাদের চাষকৃত মাছ বিক্রি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এমন সময়ে এনএটিপি-২ এর আওতায় পিও এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজারের আইডিয়া নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হয় ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর। প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন যেহেতু সরাসরি চাষীর নিকট থেকে মাছ নিয়ে ক্রেতার দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছে ফলে ভ্যালু চেইন সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে চাষীর ন্যায্য মূল্য যেমন নিশ্চিত হচ্ছে পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, লকডাউনের মধ্যে বাসায় বসে এভাবে তাজা মাছ কিনতে পারবো কখনোও ভাবিনি। সুন্দর উদ্যোগের জন্য মৎস্য বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই।

পিও, সিআইজি ও ননসিআইজি মাছচাষীদের নিকট থেকে ন্যায্য মূল্য প্রদানের মাধ্যমে মাছ ক্রয় করে, পরবর্তীতে সে মাছ অটো ভ্যানে করে পিও ম্যানেজারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ভোক্তাদের দোর গোড়ায় বিক্রি করা হয়।

পিও এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজারের এ উদ্যোগকে সফল করার জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আবুবকর সিদ্দিক, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা চিত্ত রঞ্জন পাল, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হাসান, মাঠ সহকারীগণ এবং পিও অফিস ম্যানেজার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিচে আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ThemesBazar-Jowfhowo
# নতুন সকাল ডটকম, রূপসা-খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা। # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।