বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১১ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণা :
নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন। নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন *
সংবাদ শিরোনাম
তেরখাদায় আশ্রয়নে মধ্যরাতে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে শীর্তাত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ রাজশাহী জেলা তাবলিগ ইজতেমার কাজের উদ্বোধন করলেন রাসিক মেয়র সেবা গ্রহিতাদের মনকে প্রফুল্ল করতে তেরখাদা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ফুলের বাগান! ডুমুরিয়ায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল’র বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত  কেশবপুরে সচেতন সোসাইটির উপজেলা এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কৃষি ঋণ মেলা অনুষ্ঠিত কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ী আটক ২০ কেজি মাংস ফেলে পালালো হরিন শিকারী কেশবপুরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোংলায় স্কুলের সরকারী বরাদ্ধের টাকা লুটপাটের ঘটনায় তদন্ত 

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ১০.১৬ পিএম
  • ৫৪ জন পড়েছেন
মোংলায় স্কুলের সরকারী বরাদ্ধের টাকা লুটপাটের ঘটনায় তদন্ত 

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় ৭১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী বরাদ্ধের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাত ও লুটপাটের ঘটনায় সরে জমিনে তদন্তে এসেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতিটি স্কুলে গিয়ে তদন্ত করেন তারা। সরকারের বিভন্ন দপ্তরে এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তার সুত্রধরে ৭১ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সকল সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা অধিদপ্তর। কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সঠিক তদন্তে ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী স্থানীয়দের।
মোংলা উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, গেল অর্থ বছরে মোংলা উপজেলার ৭১ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংস্কার, ক্রিড়া সামুগ্রী ক্রয় ও স্লিপের জন্য বরাদ্ধ হয় প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি। সংস্কার কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্ধের ওইসব অর্থ উত্তোলন করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যাংক একাউন্টে জমা করেণ গেল জুন মাসের শেষেল দিকে। শুধু চলতি অর্থ বছরের নয় গত তিন অর্থ বছরের বরাদ্ধের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আতœসাত করেছে। পরে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহায়তায় বরাদ্ধের এমন নয়ছয় করে তরীগড়ি করে নিজ ইচ্ছায় শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন্ত পোদ্ধার অন্যাতক্র বদলি হয়ে যায়। তবে স্থানীয় বাসিন্ধা, অভিবাবক ও স্কুল কমিটির সভাপতিরা বলছেন, মুলত সরকারী বরাদ্ধের টাকা নাম মাত্র কিছু খরচ করে বাকী টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন, সদ্য বদলি হওয়া টিও সুমন্ত কুমার পোদ্দার, ৩জন সহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সহ ৭১টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা।
এসকল ঘটনা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগে তিন অর্থ বছরের বরাদ্ধের অর্থ খরচের বিবারণ দেখার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় উপ-পরিচালক। মাগুরা জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বাবুল আক্তারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে তদন্ত করেন। এসময় শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন্ত পোদ্দার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গুরু দাশ বিশ্বাস, প্রস্পজিৎ মন্ডল ও শাহিনুর রহমান মোড়ল, উপজেলা প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান ও ৭১টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তদন্তের আওতায় এনে তদন্ত শুরু করেছে তারা। তবে সরকারী টাকা আতœসাতের বেশীর ভাগই কারসাজী ও সহায়তা করেছে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পুস্পজিৎ মন্ডল ও শহিনুর রহমান মোড়ল। তাদের বিরুদ্ধে ইতি পুর্বে বেশ কয়েকটি অভিযোগ হয়েছিল কিন্ত ক্ষমতার বলে কোন ব্যাবস্থা নেয়নী কর্তৃপক্ষ।
নিয়োমানুযায়ী সরকারী বরাদ্ধের টাকা দিয়ে স্কুল সংস্কার বা অন্যান্য কাজ করতে হলে প্রথমে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা প্লান তৈরী করতে হবে। এর পর কাজ সম্পুর্ন হলে ওই প্রকৌশলীর ছাড়পত্র নিয়ে সরকারী এ টাকা উত্তলন করার নিয়ম থাকলেও সহকারী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র দিয়ে সম্পুর্ন টাকা উত্তোলন করেছে প্রধান শিক্ষকরা বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন্ত পোদ্দার বলছে, উপজেলা প্রকৌশলী আলিমুজ্জামানের ছাড়পত্র পেয়েই সকল প্রধান শিক্ষককে তাদের স্কুলের সরকারী বরাদ্ধের টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। স্কুল সংস্কারের কাজ হওয়া বা না হওয়ার সকল দায়ভার উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আলিমুজ্জামন বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে প্লানের জন্য বলা হলে তাদের স্কুলগুলোর কি কি কাজ প্রয়োজন তার একপি প্লান তৈরী করে দেয়া হয়েছে। তবে কাজ শেষ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা এবং কোন ছাড়পত্রও দেয়া হয়নী।
অপরদিকে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা লাবিব হোসাইন বলেন, একটি প্রিন্ট করা চিঠিতে আমার সাক্ষর জাল করে সরকারী টাকা উত্তলন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীর নিদের্শনায় কাজ দেখাশুনা করতে পারী কিন্ত ছাড়পত্র দেয়ার কোন বৈধতা আমার নেই এবং আমার হাত থেকে কোন ছাড়পত্র দেয়া হয়নী।
তদন্তকারী প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মাগুরা জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বাবুল আক্তার বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আমাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভাগীয় কর্মকর্তা আদেশে মোংলার ৭১টি স্কুলের তিন অর্থ বছরের সরকারী বরাদ্ধের কাজ সরেজমিনে তদন্ত করছি। এর পর এর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নিবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বলে জানায় প্রতিনিধি দলের প্রধান।
মোংলা উপজেলার ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩ হাজাহর ৫৪২ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। কোমল মতিএসকল শিশুদের গড়ে ওঠার প্রথমস্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এ বিদ্যালয় গুলোকে দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী মোংলা বাসির।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিচে আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

ThemesBazar-Jowfhowo
# নতুন সকাল ডটকম, খুলনা রূপসা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা। # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।