বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:২১ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণা :
নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন। নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন নতুন সকাল ডটকম পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন *
সংবাদ শিরোনাম
তেরখাদায় আশ্রয়নে মধ্যরাতে কম্বল নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে শীর্তাত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ রাজশাহী জেলা তাবলিগ ইজতেমার কাজের উদ্বোধন করলেন রাসিক মেয়র সেবা গ্রহিতাদের মনকে প্রফুল্ল করতে তেরখাদা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ফুলের বাগান! ডুমুরিয়ায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল’র বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত  কেশবপুরে সচেতন সোসাইটির উপজেলা এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কৃষি ঋণ মেলা অনুষ্ঠিত কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ী আটক ২০ কেজি মাংস ফেলে পালালো হরিন শিকারী কেশবপুরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ’র শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রূপসায় নানা আয়োজন

  • আপডেট : শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২, ৩.৫৪ পিএম
  • ৭৭ জন পড়েছেন
শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহ'র ৫১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রূপসা প্রেসক্লাবের নানা আয়োজন

এস, এম মাহবুবুর রহমান : ১০ ডিসেম্বর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ’র ৫১তম শাহাদৎ বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত করতে তিনটি রণতরিসহ খুলনা অভিমুখে যাত্রাকালে শিপইয়ার্ডের অদুরে মিত্রবাহিনীর বোমা হামলায় স্বাধীন বাংলার এ দুই সূর্য সন্তান শহীদ হন। পরে তাদের রূপসা নদীর পূর্ব পাড়ে সমাহিত করা হয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রতিবারের মত এবারও রূপসা প্রেসক্লাব দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, রূপসা উপজেলা প্রশাসন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রূপসা প্রেসক্লাবের সদস্যদের অংশ গ্রহণে ১৬ দলীয় ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট, ১০ ডিসেম্বর সকালে মাজার প্রাঙ্গনে নৌবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও রূপসা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শহীদদ্বয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ পুষ্পস্তবক অর্পন, বিকেলে রূপসা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সন্ধ্যা ৭টায় প্রেসক্লাব ক্রীড়া চত্বরে ৮ দলীয় ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট।
১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয়ের উম্মাদনায় মুক্তিকামী নৌসেনারা নেভাল জেটি হলদিয়া থেকে তিনটি রণতরী বি,এন,এস ‘পদ্মা’, ‘পলাশ’ ও আই,এন,এস ‘পানভেল’ (ভারতীয়) নিয়ে বাংলার জলসীমায় যাত্রা শুরু করেন। মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত করে ১০ ডিসেম্বর ভোরে খুলনাকে শত্রুমুক্ত করতে তৎকালীন পাকিস্তানি নৌঘাঁটি তিতুমীর দখল করতে রওনা হয় রণতরী তিনটির যোদ্ধারা। রণতরী বহরের প্রথমে ভারতীয় জাহাজ আই,এন,এস ‘পানভেল’, মাঝে বি,এন,এস ‘পলাশ’ ও শেষে আই,এন,এস ‘পদ্মা’ একই গতিতে এগোতে থাকে। বেলা ১২টার দিকে জাহাজ তিনটি খুলনার শিপইয়ার্ডের অদুরে পৌঁছালে ভুল সিগনালের কারণে মিত্র বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের নিক্ষিপ্ত বোমায় ‘পলাশ’ ও ‘পদ্মা’ জাহাজ বিধস্ত হয়। এরমধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে পদ্মা’র ইঞ্জিন বিকল হয়ে নদীর চরে আটকা পড়ে এবং পলাশ জাহাজে আগুন ধরে যায়। এ সময় জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে। কিন্তু পলাশের ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়ার (চিফ ই.আর.এ) রুহুল আমিন অগ্নিদগ্ধ রণতরী পলাশ ও বিপন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই শহীদ হন। সেই সাথে আরো শহীদ হন বীর বিক্রম মহিবুল্লাহ, নৌ-সেনা ফরিদ উদ্দীন, আখতার উদ্দীন, দৌলত হোসেন ও নৌ-কমান্ডো মোঃ রফিকসহ ১০জন।
এ সময় স্থানীয় জনতা যুদ্ধ বিধস্ত পলাশে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহসহ অন্যান্য শহীদদের লাশ রূপসা নদীর পূর্ব তীরে সমাহিত করেন। দেশ স্বাধীনের ২৫ বছর পর ১৯৯৭ সালে এ দুই বীরের কবর স্থানীয় এক শিল্পপতি বিলুপ্ত করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিলে তৎকালীন রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাব (বর্তমান রূপসা প্রেসক্লাব) এটি রক্ষার্থে শহীদদ্বয়ের স্মৃতিতে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে আসেন তৎকালীন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নজরুল ইসলাম, কেডিএ’র চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম (বীর প্রতীক) ও প্রয়াত সাংবাদিক বিবিসি খুলনা প্রতিনিধি মানিক চন্দ্র সাহাসহ সূধীজনেরা। এ সময় এ দুই বীরের কবরের ভগ্নদশা দেখে কেডিএ’র চেয়ারম্যান বিস্মিত হন এবং কবর দু’টি মাজার কমপ্লেক্সে রুপান্তরিত করার জন্য তাৎক্ষনিক ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সেইসাথে ডিজাইনের দায়িত্ব দেওয়া হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট বিভাগকে। এরপর এখানে নির্মিত হয় এ দু’বীরের মাজার কমপ্লেক্স। পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতার পালা বদলে বিএনপি সরকার পূর্বের ডিজাইন ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণ করে।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ১৯৩৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বাঘচাঁপড়া (বর্তমান রুহুল আমিন নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আজহার পাটোয়ারী ও মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ১৯৫৩ সালে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে ঘাঁটি থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে ছাত্র, যুবক ও সামরিক-আধাসামরিক বাহিনীর লোকদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন। এর কিছুদিন পর ৯ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন তিনি।
অপরদিকে বীরবিক্রম মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ১৯৪৪ সালের ৩১ আগস্ট চাঁদপুরের শাহেদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. সুজাত আলী ও মায়ের নাম রফিকাতুন্নেছা। তিনি ১৯৬২ সালে নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং একই সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তার গ্রামের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর রুহুল আমীনকে বীরশ্রেষ্ঠ ও মহিবুল্লাহকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিচে আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

ThemesBazar-Jowfhowo
# নতুন সকাল ডটকম, খুলনা রূপসা থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পত্রিকা। # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি রাইট বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।