বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়ার বিশাল একটি অংশের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ শৈলমারী ১০ ভেন্ট রেগুলেটর। পলি পড়ে যার সব জলকপাটগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। গত ৪ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বৃষ্টির মৌসুম এলেই তড়িঘড়ি করে বিশেষ জরুরি প্রকল্পের মাধ্যমে গেটের মুখের পলি অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কোন এর সমাধান হচ্ছে না। গত বছর বৃষ্টির মৌসুমের শেষ দিকে অতি ভারী বর্ষণে বিল ডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়ে পড়ে। ঘর-বাড়ি তলিয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩/৪ মাস লাগে মানুষের ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামতে। আবারো সেই ভয়াবহ দৃশ্য হতে শুরু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে যদিও শৈলমারি রেগুলেটরে পৌনে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে ২টি ৩৫ কিউসেক সম্পন্ন পাম্প চালু হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে দুই পাম্পে ২ হাজার লিটার পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। কিন্তু ৩৫ হাজার হেক্টেরের বৃহৎ এই অঞ্চলের পানি পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন কাজ সম্পন্ন করা কষ্টসাধ্য। প্রতি বছর এ না করে স্থায়ীভাবে এর একটা সমাধান দরকার। আর এ জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রানের এক মাত্র পথ নদীর পলি অপসারণ করে গেট সচল রাখা। এ ছাড়া স্থায়ী ভাবে কোন সমাধান হবে না বলে মনে করে জনগণ।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, এ বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে আমার কৃষকের ধানের বীজ তলাসহ শাকসবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের-২ নির্বাহী প্রকৌশলর জানান, পানি নিষ্কাশনে শৈলমারি রেগুলেটের ৩৫ কেউসেকের দুটি পাম্প চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গেটের মুখে পলি অপসারণেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। গেটের ভিতরে এবং বাহিরের পানির যে স্তরটি রয়েছে তা অন্তত দেড় ফুট হাঁফ ডাউন। তাই ভিতরে পানির চাপ বেশি না হলে বাহিরের পলি অপসারণ করা সম্ভব হবে না। আমরা জরুরীভাবে কাজ করার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছি। পানির পর্যাপ্ত চাপ হলেই কাজ শুরু হবে।