শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিষ্ঠার ১৪১ বছরে খুলনার শহিদ হাদিস পার্কে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ১৮৮২ সালে খুলনাকে জেলা শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার দুবছর পর ১৮৮৪ সালে গঠিত হয় পৌরসভা। খুলনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শহরবাসীর বিনোদনের জন্য ওই বছর অর্থাৎ ১৮৮৪ সালে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ‘খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক’ নামে প্রতিষ্ঠা করে এই পার্কটি। প্রতিষ্ঠা থেকে প্রায় ১৪১ বছরে এই পার্কের নামের পরির্বতন হয়েছে অনেকবার।
১৯২৫ সালের ১৬ জুন মহাত্মা গান্ধী বরিশাল থেকে কলকাতা ফেরার সময় নৌপথে খুলনায় আসেন। মহাত্মা গান্ধী তখন ভাষণ দেন এ পার্কে। সেই থেকে এই পার্কের নাম হয়ে যায় গান্ধী পার্ক। ১৯৪০ সালে এখানে ভাষণ দেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ওই সময় এ পার্কের নামে আসে পরিবর্তন। নাম হয় শহীদ পার্ক।
১৯৪৭ সাল। একদিকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান, ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম আর ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভ। খুলনাতেও উড়তে থাকে ভারতীয় পতাকা। তবে ১৮ আগস্ট গভীর রাতে এই অঞ্চলের মুসলিম নেতারা কলকাতা থেকে রেলগাড়িতে খুলনায় ফিরে জানান, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বৃহত্তর খুলনা জেলা হবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। এ সময় তাদেরকে এই পার্কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পার্কের নতুন নামকরণ করা হয় জিন্নাহ পার্ক। পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রতি বাংলার জনগণ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লে ষাটের দশকে পার্কটি খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক নামে ফিরে আসে।
১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই পার্কের কাছেই পাকিস্তানি স্বৈরশাসক বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে শেখ হাদিসুর রহমান শহীদ হন। ২২ ফেব্রুয়ারি শহীদ হাদিসের নামাজে জানাজা শেষে উপস্থিত জনতা “শহীদ হাদিস পার্ক” নামে পার্কটির নামকরণ করেন।
পৌরসভার অর্থে ১৯৭৪ সালে হাদিস পার্কে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ বহু আন্দোলনের কালের সাক্ষী এই পার্ক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তান আমলে খুলনার বেশিরভাগ আন্দোলন-সংগ্রাম আবর্তিত হয়েছিল এই পার্কে। মহাত্মা গান্ধী, শেরেবাংলা এ কে ফজলু হক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ দেশের অনেক বরেণ্য রাজনীতিবিদদের পদচিহ্ন রয়েছে এই পার্কে। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সকালে এই পার্কের শহীদ মিনারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত একটি বড় প্রকল্পের আওতায় ঐতিহাসিক এই পার্কের আধুনিকায়ন করা হয়। ২০১৪ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নতুন শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। প্রকল্পের খরচ ধরা হয় ৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। শহীদ মিনারটির আয়তন ছয় হাজার ৮৬০ বর্গফুট। শুধুমাত্র শহীদ মিনারের নির্মাণ ব্যয় হয় ৭৭ লাখ টাকা।
শহীদ হাদিস পার্কে রয়েছে বিশাল লেক। লেকের উপর তৈরী করা হয়েছে এই শহীদ মিনার ও পানির ফোয়ারা। লেকের চারপাশে রয়েছে সুন্দর পাকা রাস্তা। পার্কের ভিতরেও রয়েছে সরু সরু রাস্তা। রয়েছে বসার স্থান। রাস্তাগুলির পাশে বিভিন্ন ফুলগাছে সৌন্ধর্য ও মুগ্ধতা ঝড়াছে। এছাড়াও শহীদ হাদিস পার্কে নির্মিত পর্যবেক্ষন টাওয়ার থেকে এক নজরে খুলনা শহর দেখা যায়। পার্কের উত্তর-দক্ষিন ও পশ্চিম পাশে রয়েছে রাস্তা ও আলাদা আলাদা গেট। পূর্ব প্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সকালে ও বিকালে অনেকে শরীরের ফিটনেস ঠিক রাখতে এই লেকের চারপাশে হাটেন। আবার প্রেমিক যুগলেরও অবাধ বিচরণ এই পার্কে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: bd it support