শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার রূপসায় কৃষি ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ১৬ লাখ টাকা লুট হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ইউনুস শেখ এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এক লাখ ৫২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৮ আগস্ট ভোরে তার কাছ থেকে এই টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৭ আগস্ট ভোরে রূপসা ঘাট কৃষি ব্যাংক ভবনেরই চারতলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ইউনুস উপজেলার নিকলাপুর গ্রামের ইনছান শেখের ছেলে।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘এ’ সার্কেল মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইউনুসকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশের একটি দল এক লাখ ৫২ হাজার লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত লুট হওয়া সব টাকা উদ্ধার করা যায়নি। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, এই চুরির ঘটনাটি ইউনুস একাই ঘটিয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, ইউনুস পেশায় একজন লেদ মিস্ত্রি, ট্রাকের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতেন তিনি। লোহা কাটার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি ব্যাংকের ভল্ট ও তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। শুক্রবার ভোর রাতে ব্যাংকে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ব্যাংকের তিনজন নিরাপত্তা প্রহরী এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ না থাকায় তাদেরকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, কৃষি ব্যাংক পূর্ব রূপসা ঘাট শাখার ৬টি তালাসহ ভল্ট ভেঙ্গে ১৬ লাখ টাকা লুট হওয়ার ঘটনায় ইউনুসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ইউনুজ একাই ব্যাংকে চুরির ঘটনা ঘটায় বলে স্বীকার করেছে। তবে আরও তথ্য জানা এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, ইউনুস মোটা অংকের ঋণের টাকার চাপে ছিলেন। ইতিমধ্যে চুরি করা টাকা থেকে কিছু ঋণ পরিশোধও করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পূর্ব রূপসা পেট্রোল পাম্প ও পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কৃষি ব্যাংকের রূপসা ঘাট শাখায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় নিরাপত্তা প্রহরী আবুল কাশেম ব্যাংকে এসে দেখেন, মেইন গেটের তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন মূল গেট ও লকারও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে এবং সবকিছু এলোমেলো। তিনি বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার পুলিশের উপস্থিতিতে লেজার ও ক্যাশ মিলিয়ে দেখা যায়, ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা নেই। ব্যাংকে লুটপাট চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরা রুমাল দিয়ে ঢেকে দেয়। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১৫ আগস্ট ভোর ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে একজন দুর্বৃত্ত মাথা ও মুখ কাপড়ে ঢেকে ব্যাংকে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়।
এঘটনায় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৭। এদিকে ব্যাংক লুটের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ রোববার (১৮ আগস্ট) তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় অফিসের ডিজিএম আসলাম হোসেন, এজিএম মশিউর রহমান ও এজিএম হামিম শেখ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: bd it support