1. [email protected] : Mahbub :
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান - নতুন সকাল
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৬০ Time View

চট্টগ্রাম, ১৪ মে ২০২৬:   দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় অত্যন্ত সফলতা ও পেশাদারিত্বের সাথে অভিযান পরিচালনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জোরালো টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬ টি অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ০৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ ০৯টি জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল এবং বাধা জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বেহুন্দি জাল, টং জাল ও চায়না রিংসহ সর্বমোট ৮৮২ টি নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে মাছ আহরণ, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এছাড়াও দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর ০৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে এবং জাহাজ, বোট ও ক্রাফটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি (Air Surveillance) অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযান নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ করতে না পারে। গভীর সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য শিকারিদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে পরিচালিত ১২০টি অভিযানে আনুমানিক ৩১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল ও বাধা জালসহ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মিটার জাল এবং বেহুন্দি, টং ও চায়না রিংসহ মোট ৪৮টি নিষিদ্ধ জাল রয়েছে। জব্দকৃত জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাটকাসমূহ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ‘৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ আগামী ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

জাতীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তৎপর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ জাল ব্যবহার ও জাটকা নিধনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের কারণে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে এবং জেলেদের মধ্যে আইন মেনে মাছ আহরণে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়ন এবং জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০২৫’ অর্জন করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category